এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির মূল বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মাজেদুল হক হেলাল। বুধবার সকালে তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে সিআইডি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত হেলাল চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’ নামক দোকানের মালিক। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের কাছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা এই রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ফরেনসিক ও মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে ওই পিস্তলের সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, পিস্তলটি মূলত ঢাকার এম আইচ আর্মস কোং আমদানি করেছিল।
পরবর্তীতে এটি হাতবদল হয়ে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে যায় এবং ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোংয়ের মালিক মাজেদুল হক হেলাল সেটি কিনে নেন।তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, হেলালের দোকানের লাইসেন্স ২০১৪ সালের পর আর নবায়ন করা হয়নি। লাইসেন্স ছাড়াই তিনি অবৈধভাবে এই অস্ত্রটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা খুনিদের হাতে পৌঁছায়।
এখন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, ঠিক কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে এই মারণাস্ত্রটি হাদি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট আসামিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আদালতের এই শুনানির ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন