বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির জিয়াউল আহসান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির জিয়াউল আহসান

ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিচারব্যবস্থায় বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ ও গুমের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। অতীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর সত্যতা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি পরিচালিত হচ্ছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় হাইপ্রোফাইল একটি গুমের মামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিশেষ আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে।বিএনপির নেতা ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে গুম করার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয় এবং প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে গত দশ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে তাকে আদালতে হাজির করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরে সালাহউদ্দিন আহমেদ এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। 

ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুলিশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৩ সালের আরেকটি গুমের অভিযোগে র‍্যাব-ওয়ালের সাবেক অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেনকেও একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল যাতে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘটিত অপরাধ ও বিগত জমানার গুমের মামলার তদন্ত কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আজকের এই দিনটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি গবেষকরা। ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী এই মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।