এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞানের গভীর আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পন্ন হলো ‘হাসানাহ কুরআন অলিম্পিয়াড ২০২৬’। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই অলিম্পিয়াডের মহিমান্বিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
দেশবরেণ্য আলেম ও সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা সম্মেলনে পরিণত হয়।পুরস্কার বিতরণী এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসানাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, করপোরেট লিডার, শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি এবং দেশের প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসানাহ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে আল-কুরআন কেবল তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজীবনের এক পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত দিকনির্দেশনা। সেই দর্শন থেকেই কুরআনের শিক্ষাকে নিছক পঠন-পাঠনের গণ্ডি থেকে বের করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন।এবারের প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিযোগী অনলাইন ও অফলাইন মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
দীর্ঘ বাছাই পর্বের তিনটি কঠিন ধাপ অতিক্রম করে সেরা প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তিনটি ক্যাটাগরির ৩০ জন বিজয়ীর হাতে মোট ১০ লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারের তালিকায় ছিল আধুনিক ল্যাপটপ, ট্যাব, সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ এবং মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ।সভাপতির বক্তব্যে শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারি দেশে মক্তব শিক্ষার পুনর্জাগরণ ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে যুগের আধুনিক চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ ও ফলপ্রসূ একটি শিক্ষামূলক মডেলের প্রয়োজন। যা খুব দ্রুতই হাসানাহ ফাউন্ডেশনের বিশেষ তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন হাসানাহ ফাউন্ডেশনের মক্তব পুনর্জাগরণ মিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি কুরআনের জ্ঞানকে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এই ফাউন্ডেশনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউসুফ সুলতান তার বক্তব্যে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জাগতিক নানা সমস্যার সমাধান বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানটি অলঙ্কৃত করেন অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, শাহ মোহাম্মদ অলীউল্লাহ, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, সিফাত হাসান, মুফতি মুহাম্মদ আলী এবং হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবালের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ের অপসংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এই ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ১৫ হাজার নারী-পুরুষের এই বিশাল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐশী নির্দেশনা ও কুরআন অনুধাবনের প্রতি এক গভীর অনুরাগ বিদ্যমান। এই অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি আত্মিক ও নৈতিক জাগরণের আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন