বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস আইএলওর

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস আইএলওর

জেনেভায় আইএলও প্রধানের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রী

জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডিতে অংশ নিতে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফরে রয়েছেন মন্ত্রী। বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রম সচিব আবদুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকের শুরুতেই গিলবার্ট হোংবো একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানান। 

তিনি বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক উত্তরণকে জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আইএলও মহাপরিচালক বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে একটি। এ লক্ষ্যে আইএলওর ঢাকা কার্যালয় থেকে আরও জোরালো ও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন তিনি।আলোচনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আইএলও মহাপরিচালকের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন শ্রমমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন গিলবার্ট হোংবো। 

তিনি জানান যে বাংলাদেশ মিশন আইএলওর গভর্নিং বডিতে সভাপতিত্ব এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই ধরণের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকার কারণেই বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে ঢাকা ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছে। শ্রমক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ সুদৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করার ওপর জোর দেন। তিনি চান যেন দেশের প্রতিটি শিল্প কারখানায় আন্তর্জাতিক শ্রমমান পুরোপুরি নিশ্চিত হয়। বৈঠকে আগামী জুন মাসে আইএলও মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে। বৈঠকে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।