এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় ও নিরবচ্ছিন্ন অবদানের এক অনন্য স্বীকৃতি মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩১ মার্চ জর্জিয়া স্টেট সিনেটের এক আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই সম্মানসূচক রেজ্যুলেশন গ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের গভর্নর ব্রায়ান পি কেম্প নিজ হাতে এই সম্মাননা স্মারকটি সেনাপ্রধানের কাছে তুলে দেন। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ত্যাগের এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিশেষ রেজ্যুলেশনটি কেবল নামমাত্র কোনো সম্মাননা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেটের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের সর্বসম্মত সমর্থনে গৃহীত হয়েছে।
এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই গৌরবের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর শেখ রহমান। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতিটি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মাননা গ্রহণের আগে সকালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান পি কেম্পের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে তারা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সাক্ষাৎ শেষে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরাসরি সিনেট অধিবেশনে যোগ দেন।
সেখানে তিনি জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোন্সের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে যে গত ২৮ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সফরে রয়েছেন। এই সফরের অংশ হিসেবেই তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যখন শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য থেকে এই ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রশংসা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এক বড় ধরণের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সেনাপ্রধানের এই সফর ও অর্জিত সম্মাননা দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন এক মাইলফলক তৈরি করবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের পথ আরও সুগম হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন