শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হাদি হত্যার দুই খুনিকে ফেরাতে ভারতের সাড়া নেই

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

হাদি হত্যার দুই খুনিকে ফেরাতে ভারতের সাড়া নেই

হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরানোর প্রক্রিয়া

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় এখনো কোনো সাড়া দেয়নি প্রতিবেশী দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা থেকে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসকে চিঠি দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো উত্তর মেলেনি। 

এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় এই দুই আসামিকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। 

বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়েও নিরন্তর কাজ করছে সরকার। তবে ভারতের পক্ষ থেকে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিনই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অভিযুক্তরা পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত ২৪ মার্চ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয় যে আসামিদের দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া পেতে বিলম্ব হওয়ায় মামলার তদন্তের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পেতে দেরি হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাপ্পীও বর্তমানে ভারতে আত্মগোপন করে আছেন।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে মূলত রাজনীতির কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই প্রধান খুনিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব না হলে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে দিল্লির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।