রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‍‍`বাজেটে কার্ড দিয়ে লাভ নেই, কৃষকের পাশে দাঁড়ান‍‍`: নাসীরুদ্দীন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

‍‍`বাজেটে কার্ড দিয়ে লাভ নেই, কৃষকের পাশে দাঁড়ান‍‍`: নাসীরুদ্দীন

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কৃষি নীতির কঠোর সমালোচনা করে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষকে শুধু বিভিন্ন কার্ড হাতে ধরিয়ে দিলেই হবে না, তাদের প্রকৃত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে এনসিপি আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের প্রকল্প ও ‍‍`লাল কার্ড‍‍` নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ডের নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। এখন নতুন প্রকল্প এসেছে—খাল কাটার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড। আমরাও কার্ড এনেছি, লাল কার্ড। এই প্রকল্পগুলো যদি বিফলে যায় এবং জনগণের কোনো কাজে না আসে, তবে আমরা সরকারকে লাল কার্ড দেখাবো।

কৃষি সংকট ও ‘ধান মার্কা’র সমালোচনা চলমান কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ধান মার্কা ক্ষমতায় থাকলেও আসল ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজেটে শুধু একটি কার্ড হাতে ধরিয়ে দিলেই হবে না, কৃষক কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে সেটি দেখতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি শর্তের বেড়াজালে পড়ে কৃষকরা সঠিক সময়ে ও সঠিক দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না, যার ওপর অসময়ের বৃষ্টি মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।সরকার থেকে অ্যাকশন প্ল্যান চাচ্ছি, যেখানে কৃষকের বাস্তুভিটা থেকে শুরু করে সবকিছুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক গুদামঘর চালু করতে হবে।" — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ভারত ইস্যু ও মেরুদণ্ডহীন রাজনীতি পররাষ্ট্র নীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করে এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এই সরকার ভারতের কাছে তাদের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “এত বড় বড় জাতীয় ইস্যু চলে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শক্ত প্রতিবাদ দেখা যায়নি। কারণ তারা জনগণের সমর্থনের চেয়ে বিদেশি শক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল।”

সেমিনারে এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অবিলম্বে কৃষকদের ধান সরাসরি মাঠ থেকে কেনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বড় ধরণের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে সেমিনার থেকে জানানো হয়।