বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ফেসবুকে পোস্ট, অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

ফেসবুকে পোস্ট, অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ

বিচার বিভাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় দেশের অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে শোকজ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার আইন ও বিচার বিভাগ থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বিচারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছে। 

যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করার এই বিষয়টি পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত পত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিচারকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস শৃঙ্খলা বিধিমালা, ২০১৭–এর বিধি ২ (চ) (২) অনুযায়ী চাকরির শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি কেবল শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটায় না, বরং সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। বিধিমালা অনুযায়ী একে গুরুত অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই অধস্তন আদালতের কিছু বিচারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ওয়ালে পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর মন্ত্রণালয় থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। পত্রে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যেক বিচারককে স্ব-শরীরে বা লিখিতভাবে তাদের ব্যাখা দাখিল করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কয়েক দফায় বিচারকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে বিচারাধীন বিষয় বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার ব্যাপারে কড়াকড়ি ছিল। বর্তমান এই শোকজ নোটিশের মাধ্যমে সেই শৃঙ্খলার বিষয়টি পুনরায় কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো। আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর বিচার অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকদের দেওয়া ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।