এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রণীত ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করে আজ জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেল।
আজ বুধবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই রহিতকরণ বিলটি পাস করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য এই আইনটি করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে একে একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং আজ সেই অধ্যাদেশটিই স্থায়ী বিলে পরিণত হলো।২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর এই আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশের পর ২০১৫ সালে বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
এই আইনের অধীনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা এবং তাঁদের সন্তানরা আজীবন বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাদি ভোগ করে আসছিলেন। আজকের বিল পাসের পর থেকে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাষ্ট্রীয় খরচ বহন করার প্রক্রিয়াটি বিলুপ্ত হলো। মূলত রাষ্ট্রে সাম্য ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই আইনটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংসদীয় অধিবেশনে জানানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন বাতিলের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সমতা ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে একপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দাবি করেছে সরকার। সংসদের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ জনমনেও বিশেষ কৌতূহল দেখা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন