এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। আজ বুধবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সারেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
প্রত্যর্পণ ইস্যু: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠাতে ভারতকে চাপ দিয়েছে বাংলাদেশ।
হাদি হত্যা মামলা: শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে উভয় পক্ষ একমত হয়।
ভিসা জটিলতা নিরসন: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
জ্বালানি ও সার: ভারত থেকে ডিজেল ও সার আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা, যা ভারত সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতির ভিত্তিতে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও লাভের ওপর ভিত্তি করেই দিল্লির সঙ্গে ঢাকার আগামীর সম্পর্ক পরিচালিত হবে। সম্পর্কের এই নতুন মোড়কে দুই দেশই বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। একই সাথে ভিসা সহজ করা এবং জ্বালানি সরবরাহে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব দুই দেশের বিদ্যমান টানাপোড়েন কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন