এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ দেশে বর্তমানে কতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, তার সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এমআইএস বা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতিতে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকার ভিত্তিতে বর্তমানে সারা দেশে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের চতুর্দশ দিনের অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ‘অমুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটির মাধ্যমে কঠোরভাবে তদন্ত ও শুনানি করা হয়।
যাচাই-বাছাইয়ের ওই বিশেষ প্রক্রিয়ায় যদি কেউ অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। মূলত এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করছে সরকার।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ বা আবেদন জামুকায় পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী তার জবাবে উল্লেখ করেন যে, এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪৮১ জনের গেজেট, লালমুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।
এমনকি জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত ১০৩টি সভার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। যা মূলত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বা সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে সংসদে কথা বলেন আহমেদ আযম খান। তিনি স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বিবেচনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের বিবেচনায় নেই।
তবে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধারা যে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। সরকারের এই অবস্থান মূলত রাষ্ট্রীয় বাজেটের শৃঙ্খলা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান জীবনমান পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন