এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
সরকার দেশে নতুন দুটি বিশেষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আগামী ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হবে এবং এই দিনটি পূর্বের মতো সাধারণ সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে, প্রতি বছর ৬ জুলাই ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও এদিন কোনো সাধারণ ছুটি থাকবে না।
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম গতিশীল করতেই এই দিবসটি পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্যালেন্ডারে এই পরিবর্তনগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দিবস পালনের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে নিরসনের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরশক্তির মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় তদারকি ও কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সচিব উল্লেখ করেন।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানির চাহিদা মেটানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীদের অবহিত করা হয়। জ্বালানি সাশ্রয় এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সোলার পাওয়ারকে মূলধারায় নিয়ে আসাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সিনিয়র সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে অংশ নেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্তে নতুন ছুটির দিন ও জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন