শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং লাইসেন্স প্রাপ্তি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং লাইসেন্স প্রাপ্তি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনা ও কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। এই বিশেষ অনুমতি পাওয়ার ফলে প্রকল্পটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করার আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা অর্জন করল। 

বৃহস্পতিবার প্রকল্পের পরিচালক ড. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম তথা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। 

এর ফলে চলতি এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছু যদি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিকঠাক চলে, তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানান যে, গত ৭ এপ্রিল প্রকল্পটি উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু জটিল বিষয় সামনে আসে। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তখন জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় এখন লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চেয়ারম্যান আরও বলেন যে, প্রথম ইউনিটে যখন জ্বালানি লোডিং শুরু হবে, তখন তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকবেন। দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের সামান্যতম ভুলের কারণেও যেন কোনো অঘটন না ঘটে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এই প্রক্রিয়ার পূর্ণ দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই কেন্দ্রটি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে কিছুটা পরিবর্তন এলেও এখন কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি হস্তান্তরের কথা ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান গতি বজায় থাকলে নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যেই দেশবাসী এই প্রকল্পের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।