এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
দেশে আর কোনোদিন মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে ৭১-বিধির নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এই সমালোচনা করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে বাংলাদেশে আর মব সংস্কৃতি হবে না এবং বিচারহীনতার অবসান ঘটবে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, একটির পর একটি মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে নানা রকম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থাকলেও বাংলাদেশে গত দেড় বছর ধরে এক ভয়াবহ ‘মব সংস্কৃতি’ জেঁকে বসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে এবং একইভাবে বাসসের প্রধানকেও হেনস্তা করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ ও সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার রুমে সংঘটিত মবের ঘটনাগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রামের দেড় বছর আগের একটি মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে ছিনতাইকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল।
এছাড়া সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটিও তিনি সংসদে তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, এসব ঘটনার অধিকাংশেরই দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা, ক্ষোভ এবং তীব্র বৈষম্যই এই মব সংস্কৃতির মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানুষ যখন সঠিক বিচার পায় না, তখনই এই ধরনের বিশৃঙ্খল সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ে। বিচারহীনতা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই চট্টগ্রাম বা কুষ্টিয়ার মতো ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে। তিনি অবিলম্বে মব সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অধিবেশনে তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন