বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আর কত শিশুর প্রাণ গেলে ভাঙবে আমাদের ঘুম

জাতীয় ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

আর কত শিশুর প্রাণ গেলে ভাঙবে আমাদের ঘুম

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম গাফিলতিতে ছয় নবজাতকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর নির্মম প্রাণহানি দেশের সামগ্রিক শিশু নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম উদাসীনতাকে প্রমাণ করে। পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগমুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বিবেকবান প্রতিটি নাগরিককে স্তব্ধ করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত সুরক্ষাকে বড় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

পথে-ঘাটে অপহরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন এবং খোদ চিকিৎসাকেন্দ্রে অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত শিশুদের এই দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিল দেশটিকে এক অনিরাপদ জনপদে পরিণত করছে।দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হওয়া সত্ত্বেও তাদের মৌলিক অধিকার ও জীবন সুরক্ষায় এক চরম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় রমনা থানায় একটি নিয়মিত অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আজ বুধবার জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস প্রদান করলেও অতীতে এমন বহু ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অন্যদিকে দেশের বিশিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়মিত জাতীয় টিকা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণেই মূলত দেশজুড়ে হামের এমন ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ও শত শত শিশুর করুণ মৃত্যু ঘটেছে।আইনের সুনির্দিষ্ট শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া এবং বিচারহীনতার দীর্ঘ সংস্কৃতির ফলেই মূলত অপরাধী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।

শুধু হাসপাতাল বা জনস্বাস্থ্যই নয়, বরং নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নিরাপদ আশ্রয়েও আজ শিশুরা চরম পাশবিক সহিংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, যার অন্যতম উদাহরণ পল্লবীর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার নির্মম হত্যা মামলা। এছাড়া অতীতে ঘটে যাওয়া মাগুরার শিশু আছিয়া নির্যাতন কিংবা কুমিল্লার সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ এক দশকেও চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অপরাধীরা প্রতিনিয়ত সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক বেদনাদায়ক তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মাত্র চার মাসেই ১১৮ জনেরও বেশি অবুজ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।