শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ছোট ছোট ভূমিকম্প কী বার্তা দিচ্ছে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫, ১০:২০ এএম

ছোট ছোট ভূমিকম্প কী বার্তা দিচ্ছে?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। গত ১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে কক্সবাজার শহর, উখিয়া এবং চকরিয়া এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের হালকা কম্পন অনুভূত হয়।

ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও ঘন ঘন এই কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের আলামত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।ভূমিকম্পবিদদের মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলটি ভূমিকম্পের প্রধান ফল্টলাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চলটি তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে দুটি মত প্রচলিত:চাপ হ্রাসের ইঙ্গিত: বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প ভূত্বকের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।

ফলে তা বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সামান্য হলেও হ্রাস করতে পারে।বিপর্যয়ের পূর্বাভাস: অন্য একটি মত হলো, ঘন ঘন মাইক্রো-সিসমিক কার্যকলাপ বা ভূপৃষ্ঠের নিচে ঘটে চলা খুব ছোট মাত্রার কম্পন (Magnitude 2.5 বা তার নিচে) বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। এই কার্যকলাপগুলো ভূত্বকের ভেতরে চাপ সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দেয়।ভূবিজ্ঞানী এবং ভূমিকম্প গবেষকদের মতে, এই ছোট কম্পনগুলোর প্রতি আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রাখা জরুরি।প্রস্তুতির ঘাটতি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাভূমিকম্পের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতির দিক দিয়ে দেশে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রস্তুতির অবহেলার কয়েকটি দিক হলো:দুর্বল ভবন নির্মাণ: রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই অনেক ভবন ভূমিকম্প-সহনশীল নকশায় নির্মিত নয়।মহড়ার অভাব: স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভূমিকম্প-সম্পর্কিত জরুরি মহড়া খুব কমই হয়।উদ্ধার কাজে দুর্বলতা: জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চল এবং সিলেট অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, যেসব এলাকায় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি বেশি, সেসব এলাকায় সতকর্তা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা বাধ্যতামূলক।

করণীয় ও জরুরি মনোযোগের ক্ষেত্রভূবিজ্ঞানী ও গবেষকরা মনে করেন, আকস্মিক ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নোক্ত দিকগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার:

১. নিয়মকানুন কঠোরতা: ভবন নির্মাণে নিয়মকানুন সম্পর্কিত কঠোরতা আরোপ এবং বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. নিয়মিত মহড়া: সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভূমিকম্প-সম্পর্কিত মহড়া দিতে হবে।

৩. ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তকরণ: সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. উদ্ধার দলের আধুনিকায়ন: জরুরি উদ্ধার দলকে আরো প্রশিক্ষিত ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

৫. সচেতনতা সৃষ্টি: জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে।

৬. পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন: আমাদের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আধুনিকায়ন করতে হবে।