এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে রাজপথে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ এপ্রিল সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।
শনিবার ৪ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠক শেষে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদের পরিচালনায় সভায় মাওলানা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির বর্তমান অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন।
তাঁর মতে, গণভোটে নির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের সুস্পষ্ট রায় থাকার পরও বিএনপি তা বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে। বরং সংবিধানে আংশিক সংশোধন এনে তারা নতুনভাবে স্বৈরাচারী রূপে আবির্ভূত হতে চাইছে বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিএনপি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কা করছে না বলে উল্লেখ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে জনগণের স্পষ্ট রায়কে এভাবে উপেক্ষা করার নজির নেই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখন বাতিল বা সংশোধন করা হচ্ছে, যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মামুনুল হক দাবি করেন, যখন এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে তেমন কোনো বিরোধিতা দেখা যায়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে তাদের মৌন সমর্থন ছিল। এখন হঠাৎ করে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত গণভোটের রায়কেই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে দেশের চলমান সংকটগুলো নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সংস্কৃতি মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, ব্রাহ্মণ্যবাদী আধিপত্যকে তোষণ করতে গিয়ে ইসলামি ঐতিহ্যের পরিপন্থী কাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা সরকারকে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। এছাড়া দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট এবং শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা মনে করেন, টিকার অভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে গত ২৬ মার্চ কুমিল্লায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। সভায় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী দিনের এই আন্দোলনকে সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনটি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন