রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশ চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

দেশ চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে’

রাজধানীর বুকে একের পর এক সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অবিলম্বে অপসারণ এবং মিরপুরের সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব সরকারের সামগ্রিক প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য তুলে ধরেন। মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা রয়েছে। আজ দেশবাসী জানতে চায় সেই পরিকল্পনা আসলে কী। অযোগ্য ও ব্যর্থ মন্ত্রীদের দিয়ে প্রশাসন চালানো, নাকি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অবাধ অপতৎপরতার জন্য রাষ্ট্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়াই সেই প্রতিশ্রুত পরিকল্পনা, সেই প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি। রাজধানীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নজিরবিহীন অবনতি তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ জানান।

তিনি মন্তব্য করেন যে ঢাকার রাজপথে সরকারের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে সাধারণ নাগরিকেরা আর বিশ্বাস করতে পারছেন না। মিরপুরের ইসিবি চত্বর সংলগ্ন এলাকায় চাঁদা না পেয়ে নিউ জিনি প্রোপার্টিজে একজন তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওসহ আশপাশের স্থাপনায় প্রকাশ্যে তাণ্ডব ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঠিক তার আগের রাতেও মিরপুর-১ এলাকার ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নেওয়া হয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজধানীতে রাতের পর রাত যদি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় এবং স্টুডিও তছনছ করা যায়, তবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কোথায়। খেলাফত মজলিসের নেতা উল্লেখ করেন, এটি কেবল সাধারণ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং সরকারের চরম কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় এসব ন্যাক্কারজনক তাণ্ডব সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে যদি তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের নৈতিক বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন।

মাওলানা জালালুদ্দীন বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজ পদে বহাল থাকতে পারেন না। যারা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় পদে আসীন থাকার ন্যূনতম কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর সমগ্র জাতি রাষ্ট্রের মৌলিক গুণগত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার অপসারণ ছাড়া সমাজে কোনো মৌলিক সংস্কার বা পরিবর্তন আসেনি। বরং পূর্বের মতোই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিবাজরা আগের চেয়েও আরও ভয়ঙ্কর ও আগ্রাসী রূপে ফিরে এসে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি অবিলম্বে মিরপুরের দুটি সহিংস হামলার সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়সীমা বেঁধে দেন। একই সাথে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ চক্রের মূল উৎপাটনে সর্বাত্মক চিরুনি অভিযান পরিচালনা এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান তিনি।