রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সংস্কার এড়িয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে বিএনপিকে পরিণতি ভোগ করতে হবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

সংস্কার এড়িয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে বিএনপিকে পরিণতি ভোগ করতে হবে

সংবিধান সংস্কার এড়িয়ে আবারও দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে বিএনপিকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সরকারের বর্তমান ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। 

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে সংসদ ছেড়ে রাজপথে নেমে আসা বিরোধী দলগুলোর এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে সরাসরি বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি অত্যন্ত সুকৌশলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে। 

গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে তারা মূলত গোটা জাতিকে অপমান করেছে। আযাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সংস্কারের পথ এড়িয়ে আবারও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বা ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছে, তাদের ইতিহাসের সেই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে যা অতীতে অন্য ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রে হয়েছে।সমাবেশে উপস্থিত এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল এক সময় সংবিধান সংশোধনী নয় বরং আমূল সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছিল। 

কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতা একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রাখার লিপ্সা থেকে বিএনপি গণভোটের রায়কে ভয় পাচ্ছে। তাঁর মতে, ক্ষমতার এই এককেন্দ্রীকরণ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে সরকার এখন সুবিধাবাদের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমকে সুবিধাবাদী রাজনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। 

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জনরায় বা গণভোটের ফলাফলকে যদি সরকার গুরুত্ব না দিয়ে ‍‍`হাইকোর্ট‍‍` দেখানোর চেষ্টা করে, তবে সাধারণ মানুষ আবারও রাজপথে নেমে তাদের মোকাবিলা করবে। জনগণের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না বলে তিনি সমাবেশ থেকে বার্তা দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর পথে থাকায় জোটের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে জোটের শরিক দলগুলোর কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে এবং বিজয়নগর হয়ে নাইটিংগেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পুলিশ সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোটের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জোটের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।