সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কোনো হুমকি বিএনপি পরোয়া করে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা সরকারকে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে বা কৃত্রিম আন্দোলন তৈরি করে দমানো সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০টি পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণের উদ্দেশ্যে পরিবারপ্রতি নগদ ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারবিরোধী নানা তৎপরতা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মীর শাহে আলম। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী ১১-দলীয় জোট ফুটবল দলের মতো মাঠে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে। তবে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোদিনই সফল হবে না।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাম্প্রতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দল হিসেবে জামায়াত চরম অকৃতজ্ঞতার নজির স্থাপন করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে দলটির শীর্ষ নেতাদের ওপর থেকে রাজনৈতিক কলঙ্ক ও বিরোধিতার তকমা দূর করতে তৎকালীন সরকার তাদের মূল্যায়ন করেছিল। কিন্তু দলটি আজ অতীতের সব ইতিবাচক ইতিহাস ভুলে গিয়ে সরকারের পেছনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির তরুণ নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভাষা নিয়েও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মীর শাহে আলম বলেন, বয়সের দিক থেকে তরুণ হলেও এনসিপির নেতারা রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকাশ্য সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অসম্মানজনক ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সাথে এই শক্তিগুলোর গোপন রাজনৈতিক সংযোগ থাকতে পারে। ফলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বর্তমান অপচেষ্টা কার্যত পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকেই সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার শামিল।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় একক প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে মাঠে থাকতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিগত নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও বেঈমানি করেছে, বিএনপিতে তাদের আর কখনোই পুনর্বাসন করা হবে না। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করে যারা দলের প্রতি অবিচল ছিলেন, তারা রাষ্ট্রের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং বৈধ বাণিজ্যিক সুবিধায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন