এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
দেশে সাম্প্রতিক হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশতম দিনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধির ওপর আলোচনাকালে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানা এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ৯৮ জন শিশু সন্দেহজনকভাবে হামজনিত কারণে মারা গেছে।
এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণেই হয়েছে বলে প্রমাণিত। তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন সন্দেহজনক এবং দুজনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। রুমিন ফারহানার মতে, আগে দেশে হামে মৃত্যুহার ছিল প্রতি ১০ লাখে ১ শতাংশ, যা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই সংখ্যাগুলো কেবল কাগজের হিসাব নয় বরং এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের কান্না এবং প্রিয় সন্তানকে হারানোর অসহনীয় বেদনা। একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহেই ৬১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উদাসীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি সংসদকে জানান।
রুমিন ফারহানার উপস্থাপিত তথ্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেন যে, হামের রোগীদের নিয়ে এভাবে পরিসংখ্যান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ভীতি প্রদর্শনের ফলে জনগণের মধ্যে অহেতুক `প্যানিক` বা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই রুমিন ফারহানা কঠোর পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, তিনি তো জানতেন যে তিনি ৩০০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছেন, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে নয়। সংসদে যদি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে কথা বলা না যায়, তবে সেটি আর কোথায় বলা সম্ভব বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানার এই কড়া প্রতিক্রিয়ার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবারও দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, কাউকে কথা বলতে নিষেধ করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, তিনি কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত প্যানিক রোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতোমধ্যে ৪১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে বিরোধী দলীয় সদস্যরা মন্ত্রীর এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সোচ্চার থাকতে দেখা যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন