এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
দেশজুড়ে উৎসব আর আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাইরের জগতের মতো দেশের কারাগারগুলোতেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেখা গেছে বিশেষ আয়োজন। ফলে কারাগারে বন্দি থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতারাও নববর্ষের এই প্রাণের উৎসবে সামিল হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর কারাগার সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন আওয়ামী লীগের ডজনখানেক সাবেক মন্ত্রী এবং অর্ধশতাধিক সাবেক সংসদ সদস্য।
ঢাকা বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে অবস্থান করছেন রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, টিপু মুনশি, জুনায়েদ আহমেদ পলক, আসাদুজ্জামান নূর এবং নূরুল ইসলাম সুজনের মতো হেভিওয়েট নেতারা।
যদিও এই বিশেষ কারাগারে তাঁদের নিরাপত্তার খাতিরে আলাদা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি, তবে তাঁদের জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ‘ইম্প্রুভ ডায়েট’ বা উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা ছিল।বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. তায়েফ উদ্দিন মিঞা জানিয়েছেন, এই কারাগারে ১২৪ জন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিসহ মোট ২২৮ জন বন্দি রয়েছেন। নববর্ষ উপলক্ষ্যে তাঁদের সকালের মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, আলুভর্তা এবং পেঁয়াজ-মরিচ।
দুপুরের আয়োজনে ছিল পোলাও, গরুর মাংস (অথবা খাসি), রোস্ট, সালাদ ও মিষ্টি। রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা এবং ডিম ভুনা রাখা হয়েছে। খাবার পরিবেশনের পর বন্দিদের মাঝে পান-সুপারিরও ব্যবস্থা ছিল বলে তিনি জানান।ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম জানান, রাজনৈতিক কারণে বন্দি থাকলেও নববর্ষের দিনে কারাগারের ভেতরে সবাই মিলেমিশে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আজকের খাবার অন্য দিনের চেয়ে বেশ ভালো ছিল।
জেলের ভেতরে সাধারণত এমন খাবার পাওয়া যায় না, তাই সবাই তৃপ্তির সাথেই খেয়েছেন।” এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, বন্দিদের আনন্দ দিতে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বন্দিরা নিজেরাই নাচ, গান ও কৌতুক পরিবেশন করেছেন।কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেও একই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বন্দি থাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে আড্ডা ও খেলাধুলায় সময় পার করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে এসে সরাসরি বাসার রান্না করা খাবার দিতে না পারলেও কারাগারের উন্নত খাবারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারা কর্মকর্তাদের মতে, আলোচিত রাজনৈতিক বন্দিদের পাশাপাশি সাধারণ কয়েদিদের জন্যও একই মেন্যুর ব্যবস্থা করায় পুরো কারাগারেই আজ একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন