বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

কৃষি কার্ড ফ্যামিলি কার্ড অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নেবে: গাজী আতাউর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

কৃষি কার্ড ফ্যামিলি কার্ড অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নেবে: গাজী আতাউর

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ইতিমধ্যে ৫ থেকে ৭টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। 

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তরিক মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তাঁর বক্তব্যে সরকারের কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রিজার্ভের একটি বড় অংশ ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যয় করা হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। 

এই ধরনের কার্ড প্রথার মাধ্যমে অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় না পৌঁছাতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কার্যকরী কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মো. আব্দুল আউয়াল।

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়েও সরব হন গাজী আতাউর। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অসাধু ব্যবসায়ীদের রাজত্ব কায়েম হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জ্যামিতিক হারে বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার যদি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাধারণ জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন। সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের উত্থান ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি শক্তির সাথে আঁতাত করেছে। প্রকৃত অবস্থান আড়াল করতে ভোটের হার কম দেখানো এবং বিভিন্ন কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে আহমদ আবদুল কাইয়ূম উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দোহাই দিয়ে দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এই ধরনের তৎপরতা বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয় মজলিসে শূরার এই অধিবেশন থেকে। শেষে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন শীর্ষ নেতারা।