শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

সংবিধান সংস্কার পরিষদে কেন শপথ নেননি রুমিন ফারহানা?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

সংবিধান সংস্কার পরিষদে কেন শপথ নেননি রুমিন ফারহানা?

বক্তব্য রাখছেন রুমিন ফারহানা

বর্তমান সংবিধানের অধীনেই একবার শপথ গ্রহণ করার পর পুনরায় একই পরিষদে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়া আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা সম্প্রতি গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদে কেন শপথ নেননি, সেই বিষয়ে তার নিজস্ব অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

গত শুক্রবার জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বাংলার একটি জনপ্রিয় টক শোতে অংশ নিয়ে নিজের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তিনি জানান যে ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর যদি শুরুতেই এটিকে একটি বিপ্লবী সরকার হিসেবে ঘোষণা করা হতো এবং বর্তমান সংবিধানকে বাতিল করে নতুন সংবিধান রচনার কথা বলা হতো, তবে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার একটি আইনি কাঠামো তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকত। 

কিন্তু যেহেতু সরকার সেই পথে যায়নি বরং বর্তমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছে, তাই নতুন করে শপথ নেওয়া তার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি।রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন যে যেহেতু সরকার বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই তাদের গত দেড় বছরের কার্যক্রমের বৈধতা নিশ্চিত করেছে, তাই এই সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করার অবকাশ নেই। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী প্রথম শপথ নেওয়ার পর আবার নতুন করে শপথ নিলে আগেরটি কার্যত গুরুত্বহীন বা নালিফাই হয়ে যায়। এটি কেবল আইনি জটিলতা নয় বরং তার রাজনৈতিক দর্শনের সাথেও মেলানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার এই পুরো প্রক্রিয়াকে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এই নেত্রী। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন যে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। রুমিন ফারহানা জানান যে শুরুতে অনুচ্ছেদ ১০৬ এর প্রয়োগ যেভাবে করা হয়েছিল সেটি যথাযথ ছিল না। তার মতে যারা এই পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন সেই বিচারকরাও পরে পদত্যাগ করেছেন। যদিও তাদের পদত্যাগের পেছনে কেউ স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার কথা বলছেন আবার কেউ বলছেন তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তবে এই পুরো বিষয়টি সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় এক ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূলত আইনি স্থিতিশীলতা ও প্রথম শপথের মর্যাদা রক্ষা করতেই তিনি সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে দূরে ছিলেন।