বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মোশাররফের লাশ নিয়ে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শোডাউন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

মোশাররফের লাশ নিয়ে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শোডাউন

চট্টগ্রামে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের লাশ নিয়ে ব্যাপক শোডাউন করেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে জুলাই বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এত বড় জমায়েত ও শোডাউন করল দলটির নেতাকর্মীরা।

এর আগে বুধবার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের মৃত্যুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর জানাজাকে ঘিরে বড় ধরনের জমায়েত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জানাজা শেষে কাতার ভাঙার আগেই উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। 

পরে লাশ নিয়ে মিরসরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হলে লাশবাহী গাড়ি ঘিরে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত যায়।

এ সময় উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান আতা, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়্যা এবং উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপুসহ নিষিদ্ধ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। এছাড়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের ও বিস্ফোরক মামলার কয়েকজন পলাতক আসামিও এই শোডাউনে প্রকাশ্যে আসেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল জানাজায় কোনো রাজনৈতিক শোডাউন করতে দেওয়া হবে না এবং মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশের ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, জানাজা একটি ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সেখানে কে অংশ নেবে তা পুলিশ নির্ধারণ করে দেয় না। লাশ নিয়ে মিছিল হওয়ার কোনো খবর পুলিশের জানা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের নামাজে জানাজায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচন করা ফজলুল হক অংশ নেন। জানাজা শেষে দুই নেতাই গণমাধ্যমে মরহুমের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন। এছাড়া মিরসরাই থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানও এই মৃত্যুতে শোক জানান।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতি-নির্ধারকের জানাজায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের জানাজা করতে না দেওয়ার অতীত ইতিহাস মনে করিয়ে দেন। পাশাপাশি বিগত আমলগুলোতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে কটাক্ষ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের দেওয়া একাধিক পুরোনো বক্তব্য পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রথম জানাজা শেষে প্রবীণ এই রাজনীতিকের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান এবং মহাজনহাটা স্কুল মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।