রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মসজিদুল হারামে কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টায় এক নারী আটক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

মসজিদুল হারামে কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টায় এক নারী আটক

পবিত্র কাবা শরীফের গিলাফ

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে কাবা শরিফের গিলাফ বা কিশওয়াহ কাটার চেষ্টার অভিযোগে তুরস্কের এক নারীকে আটক করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারী একটি হজ কাফেলার সদস্য হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কাঁচি দিয়ে গিলাফের একটি অংশ কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি গিলাফের অংশটিকে ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।ঘটনাটি ঘটার সময় আশেপাশে উপস্থিত অন্যান্য মুসল্লিরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করেন। 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্র গিলাফের ক্ষতি করা বা তা কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়। মুসল্লিদের উচ্চকণ্ঠের প্রতিবাদ ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তিনি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে দ্রুত নিরাপত্তা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। 

তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ওই নারীকে হেফাজতে নেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এই আকস্মিক ঘটনায় হারাইন শরীফাইন এলাকায় উপস্থিত হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটক নারীর পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পোস্টে তাকে মিশরের নাগরিক হিসেবে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি তুরস্কের নাগরিক। 

তিনি একটি তুর্কি হজ দলের সঙ্গেই সৌদি আরব সফরে এসেছিলেন। তবে আটকের পর ওই নারীর বর্তমান আইনি অবস্থা বা সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, কাবা শরিফের গিলাফ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধার প্রতীক। রেশমি কাপড়ে সোনালি সুতার কারুকাজে কুরআনের আয়াত খচিত এই গিলাফ বা কিশওয়াহ ক্ষতিগ্রস্ত করা সৌদি আরবের আইনে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। পবিত্র নিদর্শনের মর্যাদা রক্ষায় সৌদি প্রশাসন সব সময় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। ইতিপূর্বেও এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করেছে।