জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ইমানের মূল শক্তি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাকওয়া। মানবজীবনে আত্মিক শান্তি, নৈতিকতা এবং পরকালের সফলতার জন্য তাকওয়া অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াতে মুমিনদের জন্য সর্বদা তাকওয়া অবলম্বনের ওপর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর ভয় এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় যাবতীয় অন্যায় ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নামই তাকওয়া।
কাঁটাভরা পথে অতি সতর্কতার সঙ্গে পথ চলার মতো জীবন পরিচালনার নাম তাকওয়া।বিখ্যাত সাহাবি উবাই ইবনে কাবের একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার হয়। কাঁটাযুক্ত পথে মানুষ যেমন কাপড় গুটিয়ে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলে, যাতে শরীরে কোনো কাঁটা বিঁধে না যায়, তেমনি আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পাপ কাজ পরিহার করাই তাকওয়া।
সুদ, ঘুষ, মিথ্যা কিংবা যেকোনো অনৈতিক আচরণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এই গুণটি অপরিহার্য। কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে চিরকালের জান্নাত মূলত মুত্তাকি বান্দাদের জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে।মানুষের বাহ্যিক রূপ, বংশমর্যাদা কিংবা ধনসম্পদ আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে প্রকৃত তাকওয়া বিরাজ করে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে তাকওয়ার বিভিন্ন স্তর রয়েছে।
শিরক ও কুফরি থেকে মুক্তি পাওয়া এর প্রথম ধাপ। এরপর জীবনের সব ধরনের গোনাহ থেকে দূরে থাকা এবং শেষ ও সর্বোচ্চ স্তরে সন্দেহজনক বিষয়গুলো থেকেও সম্পূর্ণ বিরত থাকা হলো মুত্তাকির প্রকৃত পরিচয়।পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রতিদিনের জীবনে তাকওয়ার চর্চা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। দুনিয়ার নানা ফিতনা ও অন্যায় থেকে দূরে থেকে সৎ পথে জীবন পরিচালনা করতে পারলে তবেই প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন