মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে ফুটবল মাঠে কঙ্গো ফরোয়ার্ডের রূপকথা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে ফুটবল মাঠে কঙ্গো ফরোয়ার্ডের রূপকথা

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের বিরুদ্ধে ডিআর কঙ্গোর হয়ে সমতাসূচক গোল করে বিশ্বজুড়ে পরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ইউয়ানে উইসা। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তাঁর করা দুর্দান্ত ওই গোলেই ১-১ ব্যবধানের সমতা নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান দলটি। 

পর্তুগালের পক্ষে জোয়াও নেভেস প্রথমে গোল করলেও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে আসা এক নিখুঁত আক্রমণে চমৎকার হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান এই কঙ্গো তারকা। তাঁর এই গোলটি শুধু একটি বড় ম্যাচের ফলাফলই বদলে দেয়নি বরং বিশ্বমঞ্চে ডিআর কঙ্গোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক অবিস্মরণীয় নজির স্থাপন করেছে।তবে বর্তমান এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম বেদনাদায়ক জীবনগাথা।

২০২১ সালের জুলাই মাসে একটি ফরাসি ক্লাব থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে লরিয়েন্টে উইসার বাড়িতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এক নারী ভক্ত সেজে তাঁর বাড়িতে অটোগ্রাফ নেওয়ার অজুহাতে প্রবেশ করে আকস্মিকভাবে তাঁর মুখে মারাত্মক ক্ষতিকর এসিড নিক্ষেপ করে। এই বর্বরোচিত হামলায় তাঁর চোখ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে সময় জরুরি ভিত্তিতে একাধিক প্লাস্টিক সার্জারি ও জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। এই চরম ট্রমার কারণে ব্রেন্টফোর্ডে তাঁর পেশাদার ফুটবলে যোগদানও কয়েক মাস পিছিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আদালতের রায়ে ওই হামলাকারী নারীকে ১৮ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

হাসপাতালের বিছানা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর উইসা তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি ও কখনো হাল না ছাড়ার দৃঢ় মানসিকতা দিয়ে আবারও সবুজ মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে চার মৌসুমে ১৪৯ ম্যাচে ৪৯ গোল করার পর তিনি বর্তমান ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে নিজের গোল করার সামর্থ্য প্রমাণ করেন। তাঁর সাবেক কোচ ও সতীর্থরা জানিয়েছেন যে এই কঠিন সময়েও তিনি কখনো হতাশায় ভেঙে পড়েননি বরং প্রতিটি সামাজিক বাধাকে সামনে এগোনোর প্রধান শক্তি হিসেবে নিয়েছেন। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসে বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য এই গোল করার লড়াকু গল্প এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন অনুপ্রেরণার অধ্যায় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য সান ও বিবিসি