রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিতর্কিত গোল ও পেনাল্টি ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিচার কতটা সঠিক?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

বিতর্কিত গোল ও পেনাল্টি ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিচার কতটা সঠিক?

ছবি - সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে ফিফার রেফারিদের প্রধান ও সর্বকালের অন্যতম সেরা রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে মাঠে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি ফিফার আইন মেনেই করা হয়েছে। মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টি না পাওয়ার ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কলিনা জানান যে বিপক্ষ ডিফেন্ডার আলভারেজ যখন বলে স্পর্শ করেন তখন সালাহ বলের ওপর থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী বলের দখল না থাকা অবস্থায় শারীরিক সংস্পর্শকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয় না যা হ্যারিকেইনের সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

এছাড়া মিশরের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে যে দীর্ঘ আলোচনার জন্ম হয়েছে তার প্রেক্ষিতে তিনি উল্লেখ করেন যে গোল হওয়ার অনেক আগে অন্য প্রান্তে ফাউল হলেও নিয়ম অনুযায়ী তা বাতিলযোগ্য কারণ এটি খেলার ফেজ ওয়ানে সংঘটিত হয়েছে এবং গোলটি পরবর্তী ফেজে গড়ানোর আগেই প্রযুক্তি ও ভিএআর তা শনাক্ত করেছে যা সাম্প্রতিক সময়ের চেলসি বনাম ফুলহ্যাম কিংবা কোপা আমেরিকায় মেসির বাতিল হওয়া গোলের ঘটনার মতোই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। 

তবে মাঠে উপস্থিত রেফারিদের সিদ্ধান্তগুলো ফিফার আইন অনুযায়ী সঠিক হলেও ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহারে যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিচ্ছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে ম্যাকলিস্টারের জার্সি টেনে ধরার মতো স্পষ্ট ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ না করায় রেফারির সিদ্ধান্তের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই কনসিস্টেন্সি বা সামঞ্জস্য বজায় রাখাটা এখন সময়ের দাবি কারণ মাঠের রেফারিরা মানুষ হিসেবে সব সময় প্রতিটি কোণ থেকে সবকিছু খেয়াল করতে পারেন না এবং সে কারণেই প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হয় কিন্তু সেই প্রযুক্তির প্রয়োগ যদি বিতর্কিত হয় তবে তা খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করে। 

মওলিনা কিংবা মেসির সাথে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো রেফারিদের দৃষ্টির আড়ালে ঘটে যা অনেক সময় ক্যামেরায় ধরা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না এবং এটি ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থেকে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ছোট ছোট এই প্রযুক্তিগত ভুল কিংবা রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত ম্যাচ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে বিধায় আইসিসি ক্রিকেটের আম্পায়ার্স কলের মতো ফুটবলেও প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন। সবশেষে পিয়েরলুইজি কলিনার দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী আইনগত দিক থেকে রেফারিরা তাদের অবস্থানে অটল থাকলেও দর্শকদের মনে যে প্রশ্ন ও আক্ষেপ তৈরি হয়েছে তা নিরসনে ফিফার উচিত প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা যাতে খেলার মাঠের ইনসাফ নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকে।