জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে আগেই। তাই ফাইনালে ওঠার আক্ষেপ নিয়েই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। শিরোপার লড়াইয়ে না থাকলেও জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে চায় উভয় দল।তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হলেও ফ্রান্সের জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে এটিই দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর দীর্ঘ ১৪ বছরে তিনি ফরাসি ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স, ২০২২ সালে খেলেছে ফাইনাল এবং এবারও দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তুলেছেন। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে দায়িত্ব ছাড়তে চান এই অভিজ্ঞ কোচ।অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি বর্তমানে লিওনেল মেসির সঙ্গে সমান আট গোল নিয়ে সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন মেসি, আর এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারলে এমবাপ্পের সামনে সুযোগ থাকবে মেসির রেকর্ড স্পর্শ কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়ার সুযোগও রয়েছে তার।অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তিনি হতাশা প্রকাশ করে জানান, কোনো খেলোয়াড়ই আসলে এই ম্যাচটি খেলতে চায় না। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েই শেষ ম্যাচ খেলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দিদিয়ের দেশমও একই ধরনের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।
তার ভাষ্যমতে, ফ্রান্স যে জায়গায় থাকতে চেয়েছিল, সেখানে নেই। তবে হতাশা থাকলেও মাঠে নেমে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা জরুরি।পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছে। ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে তাদের পূর্বাভাস বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের সর্বশেষ নয় দেখায় ইংল্যান্ড মাত্র একবার জিতেছে, বিপরীতে ফ্রান্সের জয় ছয়টি। ম্যাচের আগে দু’দলই কিছুটা চোটের সমস্যায় রয়েছে। ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা ও ব্রিস সাম্বা ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না। ইংল্যান্ড দলে নেই জর্ডান হেন্ডারসন, আর রিস জেমসকে নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন