অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
বয়স ৩৬ ছুঁয়েছে। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য যা যথেষ্টই বেশি। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন চার বছর আগে। সাধারণ হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে যে কারও ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলার কথা। তবে ভুবনেশ্বর কুমার হাঁটলেন উল্টো পথে; বাস্তবতাকে বুড়ো আঙুল দিয়ে লিখলেন ফেরার গল্প।
নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড দিয়ে চার বছর পর ভারতের জার্সিতে ফিরেছেন ভুবনেশ্বর। তবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে ফেরা হলেও আলোচনাটা ডালপালা মেলছে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে। মূলত সামনের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পেস বোলিংয়ের ঘাটতি মেটাতেই এই অভিজ্ঞ ডানহাতিকে বিবেচনায় রাখছেন নির্বাচকরা।
<Image src="image_agent_tag_6363509218329372315" alt="অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার" caption="অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার" />
ভুবনেশ্বরের এই আলোয় ফেরার শুরুটা গত আইপিএল দিয়ে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের অভিযানে ২৮ উইকেট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টাতে সাদা বলের ক্রিকেটে ভুবনেশ্বরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এই ধারাবাহিকতা। ২০২২ সালের নভেম্বরে ভারতের হয়ে খেলার পর থেকে আইপিএলে ৭২টি উইকেট নিয়েছেন তিনি—যা এই সময়ে যেকোনো বোলারের জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৪৫টি উইকেটই এসেছে আইপিএলে টানা দুই শিরোপাজয়ী মৌসুমে।
ভুবনেশ্বর অবশ্য ফেরার গুঞ্জনে কান দিতে চাননি। সম্প্রতি এক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, জাতীয় দলে ফেরার কথা ভাবছি না। দীর্ঘদিন ধরেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ঠিক করা ছেড়ে দিয়েছি। কারণ যখনই তা করেছি, সুবিধা করতে পারিনি। তবে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য নতুন নির্বাচন কমিটি যখন দল ঘোষণা করল, ৩৬ বছর বয়সী এই পেসারের নাম শোভা পাচ্ছিল সেই তালিকায়।
সামনের সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ায় মূল বোলারদের ওই দুই ফরম্যাটেই রাখা হচ্ছে। ফলে জসপ্রিত বুমরাহের অনুপস্থিতিতে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে একজন অভিজ্ঞ বোলারের খোঁজে ছিল দল। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে ভুবনেশ্বরের ওপর। তবে এই প্রত্যাবর্তনকে মূলত আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে ফেরার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভুবনেশ্বর ভারতের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে।
ভারতীয় দলে এখন চোটের মিছিল, বিশেষ করে পেস বোলিং বিভাগে। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে নতুন মুখদের বাজিয়ে দেখা হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সিরিজটি বোলিং আক্রমণের কঙ্কালসার রূপ বের করে এনেছে। বুমরাহহীন সেই সিরিজে গুরনুর ব্রার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সিরাজ, আনশুল কম্বোজ, আকিব নবী ও নীতিশ কুমার রেড্ডিদের নিয়ে গড়া পেস বিভাগ মোটেও আস্থা জোগাতে পারেনি।
২০২৬ সালে ভারতের খেলা ১২টি ওয়ানডেতে বোলারদের গড় ছিল ৪১ দশমিক ৮৬—যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। বিপরীতে ভারতীয় ব্যাটারদের গড় ৫০ দশমিক ২৮, যা চলতি বছর সব দলের চেয়ে সেরা। বুমরাহের যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পেতে যখন ভারত হিমশিম খাচ্ছে, তখন ভুবনেশ্বর হতে পারেন সময়ের সেরা সমাধান। তবে একটা কিন্তু থেকে যায়—সম্প্রতি নিজেকে তিনি কেবল টি-টোয়েন্টিতেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন; ২০২৩ সালের বিজয় হাজারে ট্রপির পর থেকে খেলেননি কোনো ৫০ ওভারের ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সিরিজ তার চেনা রূপ দেখার পরীক্ষা হলেও, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চের আগে তার ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলানো টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ভুবনেশ্বরের কাছে অবশ্য আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার রোমাঞ্চ সবকিছুর ওপরে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেই রেখেছেন, বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না। আমার শরীর প্রস্তুত। সুযোগ পেলে দারুণ হবে, না পেলেও আফসোস থাকবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন