সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রোলেনিয়া চাষে সাফল্য: চুয়াডাঙ্গায় বারোমাসি বিদেশি ফল

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

রোলেনিয়া চাষে সাফল্য: চুয়াডাঙ্গায় বারোমাসি বিদেশি ফল

আমাজন অববাহিকা ও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী আতাগোত্রীয় বিরল ফল রোলেনিয়া চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ । ব্রাজিলে বেরিবা নামে পরিচিত এই ফলটির একক বৈশিষ্ট্য হলো—এতে একসঙ্গে আনারস, কলা, নারকেল ও মিষ্টি দইয়ের স্বতন্ত্র সুবাস এবং স্বাদ পাওয়া যায় । নিজের কমলা ও মাল্টা বাগানের ভেতর মিশ্র পদ্ধতিতে গাছ রোপণ করে তিনি মাত্র এক বছরের মাথায় ফলন পেতে শুরু করেছেন ।

বর্তমানে তার বাগানের রোলেনিয়া গাছগুলোর বয়স তিন বছর ।

সাধারণ দেশীয় আতা বা শরিফা একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে পাওয়া গেলেও রোলেনিয়া সম্পূর্ণ বারোমাসি জাত । ফলে সারা বছরই একই গাছে ফুল ও পরিপক্ব ফলের অবিরাম উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় । ঢাকার অভিজাত সুপারশপগুলোতে বিদেশ থেকে আকাশপথে আমদানি করা এই ফল প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয় । বাইরের দেশে এর গড় দর থাকে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা । প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়, যা আমদানিকৃত ফলের ক্ষেত্রে একেকটি ৭০০ টাকায় কেনাবেচা হয় । স্থানীয় মাটিতে চাষ হওয়া এই ফলের আকার ও মিষ্টতা বিদেশের ফলের সমান গুণমান বজায় রেখেছে ।

ফলটির খোসা বাইরের দিকে খাঁজকাটা ও করসলের মতো কাঁটাবিশিষ্ট হলেও ভেতরের শাঁস অত্যন্ত রসালো ও নরম ।

ফলটির পুষ্টিগুণও তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধ । এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবর্ধক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক খাদ্যআঁশ বা ফাইবার থাকায় এটি মানুষের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে । এছাড়া রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরাও এটি স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারেন । বিদেশে এটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে অফ-সিজনে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে ।

রোপণ কৌশলের ক্ষেত্রে এটি যেকোনো ঋতুতে পলিব্যাগ চারা হিসেবে জমিতে বা ছাদবাগানের বড় টবে লাগানো সম্ভব । জোড় কলম বা গ্রাফটিং চারা রোপণ করলে এক বছরের মধ্যে ফলন আসে, যেখানে সাধারণ চোখ কলম বা টেপ কলমে সময় লাগে দুই বছর । এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে হলে ১২ ফুট দূরত্বে প্রায় ১০০টি রোলেনিয়া চারা রোপণ করা যায় । জমি ফাঁকা না রেখে মাঝামাঝি ছয় ফুট দূরত্বে পেয়ারা চারা রোপণ করলে প্রথম তিন-চার বছর পেয়ারার ফলন বিক্রি করে বাড়তি অর্থ ঘরে তোলা সম্ভব ।

রোলেনিয়া চাষে রাসায়নিক সার ও সেচের প্রয়োজন দেশীয় আতা গাছের মতোই খুব নগণ্য । প্রধান রোগবালাই বলতে কেবল মিলিবাগ বা ছাতরা পোকার উপদ্রব দেখা দিতে পারে, যা ডাইমিথোয়েট গ্রুপের কীটনাশক প্রয়োগে সহজেই দূর করা সম্ভব । ফুল ও ফলের ঘনত্ব বেশি থাকলে মাসে একবার এবং অন্য সময়ে দেড় থেকে দুই মাস অন্তর হালকা প্রতিরোধমূলক স্প্রে করাই যথেষ্ট ।

দেশীয় বাজারে ফলের বহুমুখী জোগান বাড়াতে এবং ২০৩২ সালের মধ্যে অপ্রচলিত ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই ফলের চাষ প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ।