বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

দেশে সুপারফুড এভোকাডো চাষে অভাবনীয় সাফল্য ও ব্যাপক চাহিদা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

দেশে সুপারফুড এভোকাডো চাষে অভাবনীয় সাফল্য ও ব্যাপক চাহিদা

দেশের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর বিদেশি ফল এভোকাডো। আমাদের দেশের ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই এই ফল সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। এটি কাঁচা খাবে নাকি পাকা, সেই ধারণাও অনেকের নেই। সুপারফুড হিসেবে পরিচিত এই ফল মানবদেহের জন্য দারুণ উপকারী। তবে এই সুপারফুড দেশের মাটিতে ফলানো সম্ভব কি না, এমন সংশয় দূর করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এক কৃষি উদ্যোক্তা।করোনা মহামারির আগে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে নিজের পতিত জমিতে তিনি এই ফলের বাগান গড়ে তোলেন।

তাঁর বাগানে বর্তমানে ১০০-এর বেশি জাতের এভোকাডো গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি জাত ইতোমধ্যে ফল দেওয়া শুরু করেছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশে এভোকাডো চাষ হতে দেখলে তিনি দেশের মাটিতেও তা চাষের স্বপ্ন দেখেন। ফলের প্রতি ভালোবাসা থেকে এবং ‍‍`ফলকন্যা‍‍` হিসেবে পরিচিত নিজের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার অনুপ্রেরণায় তিনি এই বাগান শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিদেশি ফলের স্বাদ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, কারণ কিছু এভোকাডো পানসে বা তিতা স্বাদের হয়। তাই তিনি এমন জাতগুলো বেছে নিয়েছেন যেগুলোতে বাটারের পরিমাণ বেশি এবং স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। তাঁর বাগানের ফলগুলো হিমসাগর আমের মতোই মিষ্টি, যার ব্রিক্সমান ১৭-এর বেশি।

এভোকাডো গাছ খুব দ্রুত বাড়ে এবং এর জন্য বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য ফলের মতো দুই-তিন মাস পর পর কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক দেওয়ার কোনো ঝামেলা নেই। শুধু গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। এই গাছে রোগবালাইয়ের প্রকোপও কম। ফুল আসার আগে এবং ফল ধরার পর মাত্র ২ বার স্প্রে করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন জাতের এভোকাডো মে মাস থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পাকে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

ফলের বাজার চাহিদা এখন উৎপাদনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।উদ্যোক্তা জানান, তাঁর কাছে ২০ টন ফল থাকলেও তা মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্যাকেট করে বিক্রি করা সম্ভব হতো। প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা ফলের জন্য যোগাযোগ করছেন এবং চাহিদা মেটাতে না পারায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বড় বিপণিবিতানগুলোতে শত শত কেজি ফলের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সীমিত থাকায় আপাতত অনলাইনেই বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়লে এর প্রসার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।