রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি পেরোনোর পথে বাংলাদেশি জাহাজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

হরমুজ প্রণালি পেরোনোর পথে বাংলাদেশি জাহাজ

ফিরছে বাংলার জয়যাত্রা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার কারণে দীর্ঘ দিন হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ বুধবার ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জাহাজটি তার নোঙর তুলে নিরাপদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। 

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি অতিক্রম করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টার দিকে এটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা করে দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। বর্তমানে এমভি বাংলার জয়যাত্রায় প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট বোঝাই রয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজটির নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আসার পরপরই নাবিক ও ক্রুরা জাহাজটি নিয়ে নিরাপদ পথে অগ্রসর হতে শুরু করেন।বিএসসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল জাহাজটি। 

এরপর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এর ঠিক পরদিনই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলায় পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষে কুয়েতে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত সূচি বাতিল করতে বাধ্য হয় বিএসসি কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে দ্রুত সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সামুদ্রিক উত্তেজনার কারণে মাঝপথ থেকে আবারও ফিরে আসতে হয়েছিল। অবশেষে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। বর্তমানে জাহাজটি নিয়মিত গতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজের আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।