সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে বাইকারদের মানববন্ধন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৭, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে বাইকারদের মানববন্ধন

মোটরসাইকেলের ওপর নতুন অগ্রিম আয়কর আরোপ না করার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে একই দাবিতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন সাধারণ বাইকারেরা। মূলত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই বিশেষ করারোপ করা হতে পারে বলে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলার প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সিসি ভেদে বার্ষিক দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে জানানো হয়। 

মানববন্ধনে বাইকারদের পক্ষে এ কে এম ইমন বলেন, পার্শ্ববর্তী ভারতে যে মোটরসাইকেলের দাম এক লাখ টাকা, তা বাংলাদেশে কিনতে হয় প্রায় তিন লাখ টাকায়। এটি এখন আর কোনো বিলাসপণ্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় বাহন। রাইড শেয়ারিং কিংবা পণ্য ডেলিভারি দিয়ে অনেক চালক দিনে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা আয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নতুন করে এই কর বসানো হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী বাইকার লিমা শিমু বলেন, গণপরিবহনের অপ্রতুলতা এবং নিরাপত্তাহীনতা এড়াতে নারীরা ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। সেখানে বাড়তি করের বোঝা চাপানো হলে নারীদের স্বাধীনভাবে চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা এবং জ্বালানির ওপর নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছেন।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করের বোঝা চাপানো হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অনেক বাড়বে। বাংলা কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুর্শেদ আলম জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেল কেনা এবং বাইক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন কর আরোপ করা হলে অনেকেই হয়তো নিজেদের ব্যবহারের মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হবেন।