মে ১২, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। এছাড়া এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ ও ট্রাকের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হলেও মোটরসাইকেল এতদিন এর বাইরে ছিল। সোমবার বাজেটসংশ্লিষ্ট এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দুই হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ হবে বছরে পাঁচ হাজার টাকা।
১৬৫ সিসির বেশি শক্তিশালী মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০। এর মধ্যে ১১০ সিসির নিচের মোটরসাইকেলগুলো বাদ দিলে করযোগ্য বাইকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ লাখ। গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে চার হাজার টাকা কর আদায় করা সম্ভব হলে সরকারের কোষাগারে বছরে প্রায় এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা রাজস্ব যোগ হতে পারে।
বর্তমানে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি এবং প্রতি দুই বছর পর পর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। অগ্রিম আয়কর চালু হলে মালিকদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, এই কর পরবর্তীতে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন মালিকরা।হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান জানান, ১১০ বা ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মাসিক আয় সাধারণত সীমিত থাকে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এই করের প্রভাব পড়বে এবং এতে সামগ্রিক বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, হঠাৎ কর বৃদ্ধি নতুন বিনিয়োগকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, যার মোটরসাইকেল কেনার সামর্থ্য আছে, তার কিছু কর দেওয়ার সক্ষমতা থাকার কথা। তবে অগ্রিম কর পরিশোধ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওপর বোঝা তৈরি করে। মূলত রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকার এই খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন