মে ১৮, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের চামড়া খাতে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্যানারিগুলোতে কাজের তাগিদ বাড়লেও বড় সংকটে পড়েছেন কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট দেশীয় উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া খাতের কাঁচামালের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
এর ফলে প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে অতিরিক্ত প্রায় ১২ সেন্ট বেশি খরচ করতে হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের।কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডেইরি বা ট্যানারি এলাকায় দিনে গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
এবিএস ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমাম হোসেন জানান যে গত ১০-১২ দিন আগের তুলনায় এখন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে কারেন্ট থাকে না। ট্যানারিতে ডাই ও ওয়েট কেমিক্যালসহ প্রক্রিয়াধীন সব পণ্যই বিদ্যুৎ না থাকলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আগে যেখানে মাত্র ২০ সেন্টে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো, এখন সেখানে শুধু কেমিক্যাল খরচেই প্রতি স্কয়ার ফিটে ১৫ সেন্টের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি না পেলে চামড়া খাতে দ্বিমুখী চাপ আরও তীব্র হবে এবং আসন্ন কোরবানি ঈদে কাঁচা চামড়া কেনার আগ্রহ কমবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে চরম অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। ট্যাক্স ও ভ্যাট কাঠামো যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা না হলে চামড়ার বাজার আরও বড় চাপের মুখে পড়বে বলে জানান বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। আসন্ন জাতীয় বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অর্থনীতিবিদরা এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুরবস্থার জন্য স্পষ্ট নীতিগত দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন।সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন যে চামড়া শিল্প এলাকায় ইটিপি সঠিকভাবে কার্যকর না হলে এই খাত রপ্তানিতে শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে না। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিগত ১০ মাসে ১০৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চামড়া খাত থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন