সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ

চামড়াশিল্পের অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও কম শ্রম ব্যয় থাকা সত্ত্বেও পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা এই খাতের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অকার্যকারিতা ও নীতিগত দুর্বলতায় শিল্পটি তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে।

রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি ঘটছে না।চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে চামড়া ও ফুটওয়্যার রপ্তানি থেকে প্রায় ৯৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে। বিশ্ববাজারে চামড়ার বিশাল চাহিদার তুলনায় এই অর্জন অত্যন্ত সামান্য। 

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো মূলত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ ছাড়া পণ্য কিনতে আগ্রহী নয়। সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় অধিকাংশ ট্যানারি এই সনদ অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাজার দখল করছে চীন, পাকিস্তান ও ভারতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো।

ভ্যালু অ্যাডিশনের অভাবে মুনাফাও সীমিত রয়ে গেছে।বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত স্বল্প প্রক্রিয়াজাত চামড়ার ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক জুতা, ব্যাগ ও ফ্যাশন পণ্যের মতো ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে না পারলে এই খাতে বড় মুনাফা অর্জন কঠিন। এছাড়া লবণের বাড়তি দাম ও ঋণের সংকট ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যবসার পথ সংকুচিত করে দিয়েছে। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে একটি স্বতন্ত্র ‘জাতীয় চামড়া বোর্ড’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।সরকার খাতটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। সিইটিপির সংস্কার এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা ছাড়া এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অপার সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি কেবলই একটি খাত হিসেবে টিকে থাকবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারবে না।শিল্পটি আজ দীর্ঘদিনের নীতিগত ও কাঠামোগত সংকটে দিশাহারা।