সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে চামড়ার চাহিদা বাড়লেও কাজে লাগাতে পারছে না দেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২২, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

বিশ্ববাজারে চামড়ার চাহিদা বাড়লেও কাজে লাগাতে পারছে না দেশ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে উচ্চমানের চামড়াজাত পণ্যের চামড়ার চাহিদা বাড়লেও কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, কাঁচা চামড়ার ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের অন্যতম পুরোনো এই রপ্তানিমুখী খাতটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে এখনো পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই খাতকে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে কাঁচামালের সহজলভ্যতাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশগত মানদণ্ড ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানি ঈদে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চামড়া সংরক্ষণে অবহেলা হলে প্রান্তিক খামারি, ব্যবসায়ী এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এবার কোরবানির ঈদে প্রায় এক কোটি গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে চামড়া শিল্প সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাংলাদেশ এখনো উচ্চমূল্যের ফিনিশড ও ব্র্যান্ডেড পণ্য উৎপাদনের চেয়ে স্বল্প মূল্যের কাঁচা বা আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। চীন বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো প্রযুক্তি ও পরিবেশ সনদে বড় বিনিয়োগ করে বিশ্ববাজার দখল করেছে। বাংলাদেশের ট্যানারি খাতের পরিবেশগত উদ্বেগ এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর ভ্যালু চেইনে অবস্থানগত দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশীদারিত্ব কমে এসেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশ সনদ অর্জন এবং দেশীয় নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।