রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশে এআইয়ের ব্যবহারকে গতিশীল করছে মোবাইল প্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম

দেশে এআইয়ের ব্যবহারকে গতিশীল করছে মোবাইল প্রযুক্তি

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, আর্থিক সেবা গ্রহণ কিংবা দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন ও তথ্যপ্রাপ্তি—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মোবাইল ফোন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সুবিধা, যার প্রভাবে মানুষের জীবন, কর্মসংস্থান ও পারস্পারিক যোগাযোগের ধারায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৬ শতাংশই নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। গত ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার আট শতাংশ বেশি।

সোমবার প্রকাশিত 'টেলিনর এশিয়া ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড ২০২৫: বিল্ডিং ট্রাস্ট ইন বাংলাদেশ’স এআই ফিউচার' শীর্ষক এক রিপোর্টে এই তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের এক হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে টেলিনর এশিয়ার প্রধান ইওন ওমুন্ড রেভহগ বলেন, বাংলাদেশে দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিতে মোবাইল ফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জোর দেন যে, প্রাত্যহিক জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় টেলিকম অপারেটরদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে নতুন সুযোগ ও দায়িত্ব এসেছে। তিনি আরও বলেন, সংযোগ হলো ডিজিটাল অগ্রযাত্রার ভিত্তি, আর এর প্রতিটি স্তরে আস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষা (৬২%), দূরবর্তী কাজ (৫৪%) এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার (৫০%) মতো ক্ষেত্রে স্মার্ট জীবনধারাকে এগিয়ে নিচ্ছে মোবাইল প্রযুক্তি। গত এক বছরে দূরবর্তী কাজ এবং বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় মোবাইলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজন্মভেদেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়; স্মার্ট হোম ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো এআই-চালিত ফিচারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করছে মিলেনিয়ালরা। প্রায় দশজনের মধ্যে ছয়জন এখন প্রতিদিন কোনো না কোনো ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। এই ক্রমবর্ধমান আস্থা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন আশা জাগাচ্ছে।

তবে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়লেও, এর ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক কৌশল এখনও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই। রিপোর্টে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের হার ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু যারা কর্মস্থলে এআই ব্যবহার করছেন, তাদের মাত্র অর্ধেক জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে এর আনুষ্ঠানিক কৌশল রয়েছে। এটি দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আরও বহু কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে দৈনন্দিন ও প্রশাসনিক কাজে এর ব্যবহারের হার মাত্র ২৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ হলেও, তারাই ব্যক্তিগতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিনির্ভরতা, চাকরির নিরাপত্তাহীনতা এবং গোপনীয়তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টেলিনর প্রধান এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবার জন্য সংযোগ এবং নিরাপদ ডিজিটাল দক্ষতা নিশ্চিত করা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে এবং এমন একটি সমাজ গঠন করতে হবে যেখানে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে।