ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০২:০২ পিএম
আগামী ৩ মার্চ মহাকাশে এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। এদিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত এক রক্তিম বা লালচে রঙ ধারণ করবে যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হতে যাচ্ছে বছরের প্রথম এবং একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।
মহাকাশ গবেষকরা জানিয়েছেন যে এবারের সুযোগ হাতছাড়া হলে এমন দৃশ্য পুনরায় দেখার জন্য আকাশপ্রেমীদের ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে ৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে পূর্ণগ্রাস পর্যায়ের এই গ্রহণ প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় এটি ভোরবেলায় সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান হবে। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দিগন্তজুড়ে এই লালচে চাঁদের মায়াবী আভা ছড়িয়ে পড়বে যা মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে।একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয় যা টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলারের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। প্রথম পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়া বা পেনামব্রাল অংশে প্রবেশ করে যার ফলে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়।
দ্বিতীয় ধাপে চাঁদ পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করলে আংশিক গ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। সবশেষে যখন চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় তখন সূর্যের আলোর প্রতিসরণের কারণে এটি লালচে রঙ ধারণ করে। এই চূড়ান্ত পর্যায়টিকেই বিজ্ঞানীরা ব্লাড মুন হিসেবে অভিহিত করেন যা অন্ধকার রাতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।
সাধারণত সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনো বিশেষ সুরক্ষা চশমার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা সম্ভব। তবে সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের ভৌগোলিক পরিবর্তন ও রঙের বিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে উপভোগ করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে শহরের যান্ত্রিক আলো ও ধুলোবালি বা আলোক দূষণ থেকে দূরে যেখানে আকাশ পরিষ্কার থাকে সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই চমৎকার ঘটনাটি দেখার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন