আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
মহাকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ খুব শীঘ্রই এক চমৎকার মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছেন। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের নির্দিষ্ট সরলরৈখিক বিন্যাসের কারণে সাধারণত সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ নির্দিষ্ট কিছু বিরতিতে কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত হয়ে থাকে। এর আগে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও এবার রাতের আকাশে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ার এক দুর্লভ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান হতে চলেছে এক গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, যার ফলে চাঁদের প্রায় ছিয়াানব্বই শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গণনার পার্থক্যের কারণে এই চন্দ্রগ্রহণটি সাতাশ থেকে আটাশ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাবে এবং আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী আটাশ আগস্ট ভোরে এটি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
আমেরিকার বিস্তৃত অঞ্চল থেকে এই চন্দ্রগ্রহণটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে। এছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার মুহূর্তগুলোতে এই গ্রহণের একটি বিশেষ অংশ দেখতে পাবেন। এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর গভীর ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করায় তা এক অপূর্ব তামাটে বা লালচে রূপ ধারণ করতে পারে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ব্লাড মুন হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর কারণেই মূলত এই ধরনের লালচে আভার সৃষ্টি হয়ে থাকে। পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হলেও এর গভীর আংশিক গ্রহণের অংশটুকু তুলনামূলকভাবে কম সময় স্থায়ী হবে। সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ কোনো সুরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন হয় না এবং খালি চোখেই এটি নিরাপদে উপভোগ করা যায়। তবে দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে মহাজাগতিক এই দৃশ্য আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন