মার্চ ৩০, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের অসতর্কতা, ক্লান্তি বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় গাড়ি।
উন্নত দেশগুলো ইতোমধ্যে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে সড়ক নিরাপদ করার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ মানবিক ত্রুটি। চালক অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন বা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
কিন্তু এআই চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা আবেগের কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে তথ্য ও গাণিতিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে চলে।
সেন্সর, ক্যামেরা এবং রাডার প্রযুক্তির সমন্বয়ে এআই সিস্টেম প্রতি মুহূর্তে চারপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে। সামনে কোনো বাধা বা পথচারী থাকলে এটি মানুষের চেয়েও দ্রুত সাড়া দিতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক চাপতে সক্ষম।গুগল ও টেসলার মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও পরীক্ষা চালাচ্ছে। কিছু দেশে নির্দিষ্ট রুটে এসব গাড়ি সফলভাবে চলাচল করছে।
তবে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সরাসরি চালকবিহীন গাড়ি চালানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমাদের দেশে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি না হলেও চালককে সতর্ক করার মতো এআই প্রযুক্তি বা অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন