রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রযুক্তিতে নতুন সরকারের কাছে তরুণদের প্রত্যাশা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

প্রযুক্তিতে নতুন সরকারের কাছে তরুণদের প্রত্যাশা

আইটি খাতে তরুণদের চাওয়া

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন যুগে পদার্পণ করেছে যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত কেবল নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগই তৈরি করেনি, বরং এটি এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। এই প্রেক্ষাপটে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ নতুন সরকারের কাছে একটি আধুনিক, দক্ষতানির্ভর এবং ভবিষ্যৎমুখী আইটি নীতিমালার দাবি জানাচ্ছেন। 

তরুণদের এই প্রত্যাশা কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই নিহিত।

প্রথমত, তরুণদের পক্ষ থেকে দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে। বর্তমানে অনেক তরুণ এই খাতে কাজ করতে আগ্রহী হলেও মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং হাতে-কলমে শিক্ষার অভাবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোতে তরুণদের দক্ষ করে তোলা গেলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।দ্বিতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট জব খাতের জন্য নীতিগত এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুণ আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে সফলতার সাথে কাজ করলেও পেমেন্ট গেটওয়ের জটিলতা এবং ব্যাংকিং সাপোর্টের অভাব তাঁদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। 

নতুন সরকার যদি আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করে এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে, তবে এই খাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল আয়ের বৈধ ও সহজ কাঠামোর দাবি এখন সাধারণ তরুণদের মুখে মুখে।তৃতীয়ত, সারাদেশে দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে ইন্টারনেটের গতি ও মূল্যের যে বৈষম্য বিদ্যমান, তা গ্রামীণ তরুণদের পিছিয়ে দিচ্ছে। 

সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ইউনিয়ন পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক তরুণরাও বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে কাজ করা তরুণরা প্রায়ই অর্থায়ন এবং সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে মাঝপথে থমকে যান। সরকার যদি বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড, কর সুবিধা এবং টেকনোলজি পার্কগুলোতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়, তবে দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

চতুর্থত, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির বাস্তবমুখী সংযুক্তি এখন অপরিহার্য। কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইন আয়ের প্রাথমিক ধারণাগুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুরু থেকেই প্রযুক্তির সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। 

পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের একটি বড় দায়িত্ব। প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তিশালী আইন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তরুণ এই প্রজন্ম মনে করে, সরকার যদি এই যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করে, তবে স্মার্ট ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দ্রুতই বাস্তবে রূপ নেবে।