মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

মহাকাশ থেকে চাঁদের অপরূপ দৃশ্য

ঐতিহাসিক এক চন্দ্রাভিযান শেষে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী এখন পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের রোমাঞ্চকর ও অভিভূত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে তোলা ছবিগুলোতে চাঁদের অসংখ্য গিরিখাত, গভীর ফাটল ও বিশালাকার শৈলশিরাগুলো ফুটে উঠেছে যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে গবেষণার রসদ জোগাচ্ছে। 

বিশেষ করে পৃথিবী উদয় বা আর্থরাইজ এবং বিরল সূর্যগ্রহণের দৃশ্যগুলো তাদের এই সফরকে অনন্য এক উচ্চতা দিয়েছে।এই মিশনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করা। সেখানে যাওয়ার পর প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এই নভোচারীরা। 

নাসার প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে চাঁদের চারপাশ ভ্রমণকারী ক্রিস্টিনা কোচ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে চাঁদের ধূসর ভূপ্রকৃতিকে এত কাছ থেকে দেখা এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর ভাষায় চাঁদের বুক চিরে ল্যাম্পশেডের ছিদ্র দিয়ে আসা আলোর মতো উজ্জ্বল নতুন গর্তগুলো তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। 

অন্যদিকে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার জানিয়েছেন ওরিয়নের জানালা দিয়ে বাইরে তাকানোর সময় তাঁর মনে হচ্ছিল তিনি নিজেই যেন চাঁদের সেই রুক্ষ পাহাড়গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।আর্টেমিস-২ এর এই দলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। অভিযানের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফোনে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

 কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন যে পৃথিবী থেকে চাঁদের যে অংশটি দেখা যায় তার তুলনায় বিপরীত পাশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা এবং সেখানে মারের আধিক্য অনেক কম। নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান মনে করেন এই সফল অভিযান মানুষকে ‘টু-প্ল্যানেট স্পিসিস’ বা দুই গ্রহের প্রজাতি হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই মিশন এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে উন্নত অপটিক্যাল কমিউনিকেশন ব্যবহার করে মাত্র ৪৫ মিনিটে ২০ গিগাবাইট তথ্য মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে যা এক বড় ধরনের কারিগরি বিপ্লব। 

বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার মার্কিন সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে এটি সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তবে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করা। বাতাসের প্রচণ্ড ঘর্ষণে এ সময় যানের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে এই সফল চন্দ্রাভিযান মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশে মানুষের আগামীর স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।