মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে আর্টেমিস নভোচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে আর্টেমিস নভোচারীরা

চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকা এই অভিযাত্রীরা এখন চন্দ্রপৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমান্ডিং অফিসার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন যে নভোযানের ভেতরে থাকা সকল সদস্যের মনোবল এখন তুঙ্গে। 

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।নাসার সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নভোচারীরা যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তখন তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন। 

সেই মুহূর্তে চাঁদ থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ মাইলের কিছু বেশি। ওরিয়ন মহাকাশযানটি এখন দ্রুতগতিতে তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রবি ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে এই যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়টি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

এই সময়ে নভোযানটি ‘চাঁদের মহাকর্ষীয় বলয়ে’ প্রবেশ করবে, যেখানে পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের আকর্ষণ শক্তি মহাকাশযানটির ওপর বেশি কার্যকর হবে।এই ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানে মার্কিন নাগরিক রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভারের সঙ্গে রয়েছেন কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা তাদের দিনটি শুরু করেছেন কফি এবং বিশেষ এক ধরনের ডিমের খাবার দিয়ে। তাদের ঘুম ভাঙানো হয়েছিল একটি জনপ্রিয় পপ সংগীতের সুরে। 

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদকে প্রদক্ষিণের সময় পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে যাওয়ার নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়বে। এটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষ আবারও চাঁদের এত কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য এই অতিমানবীয় পরিশ্রম করছে। শনিবার দিনের শেষভাগে নভোযানটি হাতে চালানোর বা ম্যানুয়াল পাইলটিং করার একটি মহড়া দেওয়ার কথা রয়েছে ভিক্টর গ্লোভারের। 

মূলত গভীর মহাকাশে মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাই করতেই এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি নভোচারীরা তাদের বিশেষ ভূতাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে চাঁদের প্রাচীন লাভা প্রবাহ এবং উল্কাপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল সব গর্তের ছবি তুলবেন। আগের অ্যাপোলো মিশনের তুলনায় এবারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে বলে জানিয়েছে নাসা।অ্যাপোলোর যানগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উড়লেও আর্টেমিস-২ এর ক্রুরা চাঁদের সবচেয়ে কাছে যাওয়ার সময় ৪ হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব বজায় রাখবেন। এর ফলে তারা চাঁদের দুই মেরুসহ সম্পূর্ণ গোলাকার পৃষ্ঠটি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। 

ইতিমধ্যে ওরিয়ন থেকে তোলা পৃথিবীর একটি মনোমুগ্ধকর পূর্ণাঙ্গ ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সাগরের নীল জলরাশি আর সাদা মেঘের অপূর্ব দৃশ্য ফুটে উঠেছে। এই মিশনটি মূলত চাঁদে বারবার ফিরে যাওয়া এবং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে আরও দূরবর্তী মহাকাশ গবেষণার জন্য এই ঘাঁটিটি একটি প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নভোচারীরা তাদের শৈশবের স্বপ্ন পূরণের এই অভিযানে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত বোধ করছেন।