অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের সবধরনের তথ্য জমা রাখার জন্য ক্লাউড স্টোরেজের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ব্যবহারকারীরা নিশ্চিন্ত মনেই গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স বা আইক্লাউডের মতো পরিষেবাগুলোতে তথ্য জমা রাখছেন। কিন্তু এই ডিজিটাল স্টোরেজ ডিভাইসটি ঠিক কতটা সুরক্ষিত? এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা আদৌ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নেট দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ক্লাউড স্টোরেজে রাখা তথ্য মোটেও সুরক্ষিত নয়। এর প্রধান কারণ হলো, ক্লাউডে রাখা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর নিজের হাতে থাকে না। ব্যবহারকারীর সমস্ত তথ্য জমা থাকে কোনো দূরবর্তী সার্ভারে, যার মালিকানা অন্য কোনো কোম্পানির। ফলে সেখানে সাইবার অপরাধীদের নজর পড়ার আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও সেই তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে।
এই কারণেই বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তথ্য সুরক্ষার তাগিদে আগামী দিনে পুরনো দিনের সিডি বা ডিভিডির মতো ফিজিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসগুলো আবারও বাজারে ফিরতে পারে। কারণ সিডি বা ডিভিডি হলো গ্রাহকের সম্পূর্ণ নিজস্ব সম্পত্তি। সেখানে রাখা তথ্য ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারো পক্ষে দেখা, মুছে ফেলা বা চুরি করা প্রায় অসম্ভব।
ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো এটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর। ইন্টারনেটে সমস্যা দেখা দিলে বা সার্ভার ডাউন থাকলে গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো অ্যাক্সেস করতে পারেন না। অন্যদিকে, সিডি বা ডিভিডি অফলাইন অবস্থাতেও দিব্যি চালানো যায়।
তৃতীয়ত, খরচের দিক থেকেও ক্লাউড বেশ ব্যয়বহুল। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণ স্টোরেজের পর এই পরিষেবা ব্যবহার করার জন্য মাসিক বা বাৎসরিক ভাড়া (সাবস্ক্রিপশন) দিতে হয়। কিন্তু সিডি বা ডিভিডির ক্ষেত্রে খরচ মাত্র একবারই। তাছাড়া এই হার্ডওয়্যারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী স্টোরেজ হিসেবে ধরা হয়, যাতে সঠিক যত্নে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। ক্লাউডের ক্ষেত্রে সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে, নতুন করে বাজারে সিডি বা ডিভিডি ফেরানোর পথে একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ আধুনিক কম্পিউটার বা ল্যাপটপেই সিডি বা ডিভিডি প্লেয়ার বা রাইটার থাকে না। নতুন করে এই সিস্টেম ইনস্টল করা বা এক্সটারনাল প্লেয়ার ব্যবহার করা বেশ খরচসাপেক্ষ। তাই তথ্য সুরক্ষার এই তাগিদ সত্ত্বেও নির্মাণকারী সংস্থাগুলো সেই পুরনো প্রযুক্তির রাস্তায় আবার হাঁটবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন