মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে ভয়াবহ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে ভয়াবহ হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নতুন করে বড় ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের ঠিক আগে দেশটির একটি বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। 

কুয়েত কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারেও শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভোরে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হওয়া হামলার ফলে সেখানকার বেশ কয়েকটি কার্যকর ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। 

দ্রুততম সময়ে জরুরি সেবাদানকারী ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েতের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার চারপাশের বায়ুর মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে হামলার পর জনমনে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার যে শঙ্কা বা গুজব তৈরি হয়েছিল তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে কুয়েত সরকার।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কুয়েতের এই গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো।

 কৌশলগত কারণে এই স্থাপনাটি কুয়েতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিকভাবে কুয়েত ইরান সীমান্ত থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটারের মতো দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি এখন সরাসরি যুদ্ধের হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। ভৌগোলিক সান্নিধ্যের কারণে ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের সম্ভাব্য হামলার জন্য কুয়েত এখন একটি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

পুরো দেশজুড়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ এখন সরাসরি কুয়েতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও মৌলিক পরিষেবাগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। একের পর এক এমন হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের নতুন এক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুয়েত সিটি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন হামলার পুনরাবৃত্তি নিয়ে এক ধরণের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।