এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এখন থেকে টোল আদায় করতে পারবে ইরান ও ওমান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে স্বীকৃত এই প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতির কৌশলগত প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এপি তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে এই চুক্তি অনুযায়ী ইরান জাহাজের ওপর আরোপিত টোল থেকে অর্জিত অর্থ দেশের পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করার সুযোগ পাবে।
ওমান এই অর্থ ঠিক কী কাজে ব্যবহার করবে তা নিয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও উভয় দেশই এই ফি আদায়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এই প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে এর ওপর ইরান ও ওমান উভয়েরই ভূখণ্ডগত ও জলসীমানাগত অধিকার রয়েছে। সেই সার্বভৌম অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েই মূলত এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের একটি বড় অংশ পরিবহণ করা হয়। এতদিন এটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক টোল আদায়ের নজির ছিল না। তবে বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে যার বিনিময়ে তেহরানকে এই টোল আদায়ের অনুমতি দিল ওয়াশিংটন। ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে এটি একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন যা ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের নৌ-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে ইরান ও ওমানের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন