এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের ৪০তম দিন আজ বুধবার। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোর রাজপথে লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কারো মৃত্যুর ৪০তম দিন বা ‘চেহলাম’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। খামেনির সমর্থকরা এই দিনটিকে শোক ও শক্তির মহড়া হিসেবে পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে এক নজিরবিহীন হামলায় তেহরানে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সেই দিন থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে দেশ দুটি। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘাতের পর খামেনির এই চেহলামের দিনটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য বেশ গুরুত্ব বহন করছে।
আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ছেলে মোজতাবা খামেনি। নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে তিনি অভিষিক্ত হলেও এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেননি। বাবার চল্লিশার এই দিনে তিনি কোনো বিশেষ ভাষণ বা বার্তা দেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব। শোকাতুর ইরানি জনগণের মাঝে তাঁর উপস্থিতি বা বক্তব্য নতুন করে কোনো রাজনৈতিক মোড় তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে একটি বিশেষ কাকতালীয় ঘটনায় খামেনির চেহলামের দিনেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা এসেছে। এই সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিকামী দেশ স্বাগত জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে যে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, এই সাময়িক বিরতি তাতে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাজপথে নামা লাখো মানুষের ক্ষোভ এই যুদ্ধবিরতিকে কীভাবে গ্রহণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তেহরানের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সকাল থেকেই মানুষ দলে দলে শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছে। নিরাপত্তার খাতিরে শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শোকের এই আবহ যেন কোনো নতুন হাঙ্গামার রূপ না নেয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে ইরান প্রশাসন। খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এই চল্লিশা অনুষ্ঠানটি ইরানের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন